হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিলিস্তীনের ব্যাপারে হিযবুল্লাহ ও মুক্বাওয়ামা অর্থাৎ ইসলামী প্রতিরোধ সংগ্রামের নীতি অবস্থান:
شهید سیدحسن نصرالله(رضوان الله علیه) :نحن شیعة علی بن أبی طالب فی العالم؛ لن نتخلي عن فلسطین ولا عن شعب فلسطین ولا عن مقدسات الأمة في فلسطین.
হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ (র.আ.) বলতেন,"আমরা (হযরত ইমাম) আলী ইবনে আবী তালিবের (আ) শি'আরা কখনোই ফিলিস্তীনকে, ফিলিস্তীনী জনগণকে এবং ফিলিস্তীনে মুসলিম উম্মাহর পবিত্র স্থান ও বিষয়াদি (যেমন:মসজিদুল আকসা,হযরত ইব্রাহীমের মাযার ও হারাম ইত্যাদি) পরিত্যাগ করব না (ছেড়ে দেব না)।"
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল শেখ না'ঈম্ ক্বাসিম জোর তাকিদ দিয়ে বলেছেন: মুকাওয়ামাহ্ (প্রতিরোধ সংগ্রাম) হচ্ছে অধিকৃত ভূখণ্ড মুক্ত ও উদ্ধারের একমাত্র পথ,পন্থা ও পদ্ধতি। আর অন্য সকল পথ ও পদ্ধতি সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ফিলিস্তীনের তথ্য কেন্দ্রের প্রতিবেদন মোতাবেক ক্বাসিম বলেন,"লেবানন প্রত্যক্ষ ভাবে মুকাওয়ামাহ্ অর্থাৎ প্রতিরোধ সংগ্রামের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এই মুকাওয়ামাহ্ (প্রতিরোধ সংগ্রাম)ই পারে অধিকৃত ভূখণ্ড ও জনতাকে (লেবানন ও ফিলিস্তীনের জনগণকে) উদ্ধার ও মুক্ত করতে।
তিনি আরো বলেন, (ফিলিস্তীন ও লেবাননের) অধিকৃত ভূখণ্ডের আসল মালিকদের (লেবানন ও ফিলিস্তীনের জনগণ) উচিত যে কোনো মূল্যে মুকাওয়ামাহ্ (প্রতিরোধ সংগ্রাম) অব্যাহত রাখা।
হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল জোর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, যেমনভাবে সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ সব সময় জোর তাকিদ দিয়ে বলতেন ঠিক তেমনি ফিলিস্তীন প্রসঙ্গ হচ্ছে হিযবুল্লাহর মূল কেন্দ্রীয় প্রসঙ্গ ও বিষয়।
তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তীনকে সাহায্য করার জন্য আমাদের উচিত সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করা।
লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহ, ইয়ামানের আনসারুল্লাহ,ইরাকী প্রতিরোধ সংগ্রামী গ্রুপ ও দলসমূহ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে ফিলিস্তীন প্রসঙ্গ ও সমস্যা হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে প্রধান ও মুখ্য সমস্যা ও বিষয়।
আর এ জন্য মুক্বাওয়ামাহ্ অর্থাৎ প্রতিরোধ অক্ষের সকল গ্রুপ,দল ও দেশ নিজেদের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে মুখ্য ও প্রধান এ সমস্যার সমাধানে নিজেদেরকে সকল বিপদাপদ ও ঝুঁকির সম্মুখীন করেছেন।আর এ বিষয়টি নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্য ও অর্থের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল।
আয়াতটি:
وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
মুহাজিরদের আগেই যারা হিজরত ও ঈমানের নগরীতে (পবিত্র মদীনায়) বিদ্যমান ছিলেন তাঁরা (আনসারগণ) যারা তাঁদের কাছে হিজরত করেছেন তাঁদেরকে (মুহাজিরদের) ভালবাসেন এবং তাঁরা (মুহাজিরগণ) যা (যে সব সুযোগ সুবিধা) প্রাপ্ত হয়েছেন সেগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেন না এবং এমনকি তাঁদের দারিদ্র ও অভাব থাকা সত্ত্বেও তাঁরা (আনসারগণ) তাঁদেরকে (মুহাজিরদেরকে) নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেন; যারা নিজেদের নফস ও প্রবৃত্তির কৃপণতা ও লোভ-লালসা থেকে বিরত থাকে তারাই সফলকাম
(সূরা-ই হাশর:৯)।
ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট